স্বপ্নভূমি ডেস্ক : যশোরের অভয়নগরে এক গর্ভবতী নারীকে জোরপূর্বক তালাকনামায় স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম ও ভুক্তভোগীর স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) অভয়নগর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই নারী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১৭ মে পুলিশ সদস্য শফিকুর ইসলাম (বিপি নম্বর: ৯৫১৫১৭৬৩২১)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামীর একাধিক পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়টি টের পান তিনি। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে থাকেন। পরে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।
২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর তাকে অমানবিক নির্যাতনের পর ঘরে আটকে রাখা হয়। পরদিন কৌশলে পালিয়ে গিয়ে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং বাবার বাড়ি আশ্রয় নেন। পরিবারের মান-সম্মানের কথা ভেবে শুরুতে আইনের আশ্রয় নেননি তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সালিশ বৈঠকে তার বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে স্বামীপক্ষ ও স্থানীয়দের চাপ ও হুমকির মুখে তাকে তালাকনামায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। অথচ স্বামীর স্বাক্ষর আগেই ২৫ ফেব্রুয়ারি নেওয়া হয়েছিল। এ সময় তিনি নিজের গর্ভাবস্থার কথা জানালেও বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়।
পরে ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে ৩ মার্চ একটি সালিশনামা তৈরি করা হয়, যেখানে উল্লেখ থাকে বাচ্চা জন্মের পর তালাক কার্যকর হবে। ভুক্তভোগীর দাবি, এরই মধ্যে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় তিনি অভয়নগর থানা ও পুলিশ সদর দফতরে লিখিত অভিযোগ করলেও এখনও কোনো প্রতিকার পাননি।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই নারী বলেন,
“আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ কোন পরিচয়ে গড়ে উঠবে? আমার অনাগত সন্তানের কি অপরাধ? আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে স্বামী শফিকুর ইসলাম জানান, উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে তালাক হয়েছে এবং কাউকে জোর করা হয়নি। তিনি দ্বিতীয় বিয়ের কথাও স্বীকার করেন। ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই সালিশ করা হয়েছে এবং দু’পক্ষের সম্মতিতেই তালাক কার্যকর হয়েছে। তবে তিনি ভুক্তভোগীর গর্ভাবস্থার বিষয়ে কিছু বলেননি।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান (গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ) জানান, পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে।